কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই চলাচলের অনুপযোগী। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ধনপুর মঠপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ও দিদার সমিতি সংলগ্ন এলাকায় বড় বড় দুটি খানাখন্দক সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি পড়লেই যেখানে হাঁটু পানি জমে যায়।ফলে প্রতিনিয়ত এখানে গাড়ি,চালক ও যাত্রী নানা দুর্ঘটনার শিকার হন। আহত হয় অসংখ্য মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অনেকে। যেহেতু সড়কটি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও আদর্শ সদর উপজেলায় পড়েছে তাই এখানে রশি টানাটানি হচ্ছে কে রাস্তা ঠিক করবে এ নিয়ে, জানালেন স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার দুরাবস্থা ও যাত্রীদের ক্ষোভ দেখা গেছে।
জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কটি প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার। এই রাস্তাটির টমছমব্রিজ থেকে গোবিন্দপুর রেলগেইট পর্যন্ত পড়েছে সিটি কর্পোরেশনে আবার দৌলতপুর থেকে দিদার সমিতি হয়ে সামনের কিছু অংশ পড়েছে আদর্শ সদর উপজেলায়। এরপর আবার কিছু অংশ পড়েছে সিটি কর্পোরেশনে। ফলে সাড়ে তিন কিলোমিটারের এই রাস্তাটি মাঝপথে পড়েছে আদর্শ সদর উপজেলার দূর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের আওতাধীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির বৃহৎ একটা অংশ একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দুটি স্থানে বড় দুটি খানা খন্দক সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত এখানে নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সড়কটি জেলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। কারণ, এই সড়কটি ব্যবহার করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়,বার্ড কুমিল্লা,পলিটেকনিক ইন্সিটিটিউট,ক্যাডেট কলেজসহ আরো বেশ কয়েকটি বড় ছোট স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা, ১০ বিজিব ‘র সদর দপ্তরসহ অসংখ্য সরকারি বেসরকারি অফিস রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ন সড়ক এভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সড়কটিতে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক,যাত্রী ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার বিকেলে আবদুল মোতালেব, রহিম ভরসা, কাজী ফারুক, সুলতান, আলমাছসহ অন্তত ১০/১২জন সিএনজি ও মিশুক চালকের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানায়, এই সড়কটিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮/১০টি দুর্ঘটনা ঘটছে। গত বুধবারও ৪টি সিএনজি উল্টিয়ে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে ৭/৮জন মারাত্মক আহত হয় । এর মধ্যে মহিলা ২ জন বলে জানিয়েছেন তারা।
ধনপুরের স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী মোহন বলেন, আমরা বহুদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলতেছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। ইউনিয়নের মেম্বাররা বলেন, আগে সিটির অংশের কাজ হোক, আবার সিটির লোকেরা বলেন ইউনিয়নের অংশের কাজ হোক। এই নিয়ে চলছে রশি টানাটানি।
দিদার সমিতির ব্যবসায়ী মামুন বলেন, কুমিল্লা নগরীর রাস্তার চেয়ে এই রাস্তাটি অনেক গুরুত্বপূর্ন কিন্তু কেউ খবর রাখছে না এই সড়কের। মনে হচ্ছে, মা-বাবা হীন একটি এতিম সড়ক এটি।
কুমিল্লা আদর্স সদর উপজেলার নর্িাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন,রাস্তার দুরাবস্থার কথাটি আমি এই মাত্র আপনার কাছে শুনলাম। যেহেতু জনগন দুর্ভোগে আছে তাই আমি অবশ্যই রোববার সরেজমিনে ইঞ্জিনিয়ার পাঠাব। বিষয়টি দেখে দ্রুত আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।