লাকসামে রেললাইন ঘেঁষা জায়গা দখল করে মাছ চাষ, ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল

নাসির উদ্দিন চৌধুরী।।
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

কুমিল্লার লাকসামে রেললাইন ঘেঁষা রেলওয়ের জায়গা দখল করে প্রভাবশালীদের অবৈধ মাছ চাষের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে রেললাইন। মাছের ঘের নির্মাণের কারণে রেললাইনের দুই পাশ ভেঙ্গে পড়ায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বর্তমানে কুমিল্লার লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত রেলপথে এমন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে ট্রেন। এতে যাত্রীদের থাকতে হয় আতঙ্কে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসামের কালিয়াচৌ এলাকায় মাছের ঘের তৈরীর কারণে রেললাইনের দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। সেখানে নামমাত্র মেরামতের জন্য মাটির বস্তা ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে সাময়িকভাবে রেললাইনটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে। ওই অংশে লাইন দেবে যাওয়ায় ট্রেনগুলো বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের দৌলতগঞ্জ, খিলা ও নাথেরপেটুয়া স্টেশন এলাকাসহ একাধিক স্থানে প্রভাবশালীরা রেলওয়ের জমিতে মাটি কেটে তৈরি করেছেন মাছের ঘের। এতে রেললাইনের পাশের মাটি ভেঙে পড়ছে এবং অনেক স্থানে লাইন নিচে দেবে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চালাতে হচ্ছে চালকদের। রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, রেললাইনের দুই পাশে কমপক্ষে ৪৮ ফুট জায়গা খালি রাখার নিয়ম থাকলেও এসব এলাকায় নিয়ম ভঙ্গ করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মাছের ঘের। কুমিল্লার লাকসাম থেকে মনোহরগঞ্জের খিলা পর্যন্ত প্রায় ৪৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনে একটি আন্তঃনগর ও একটি এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রেন চলাচলের সময় কম্পন এতটাই বেড়েছে যে, অনেক যাত্রী আতঙ্কে যাত্রা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এই রুটের নিয়মিত যাত্রী ও এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, ট্রেন যখন চলে তখন মনে হয় যেন দোলনার ওপর বসে আছি। এমনভাবে দুলে যে মনে হয়, ট্রেনটা বুঝি পড়ে যাবে। ভয় নিয়েই যাতায়াত করতে হয় আমাদের। সচেতন মহল বলছে, রেলওয়ের তদারকির অভাবে এভাবে জায়গা দখল ও ব্যবহার বাড়ছে। এতে শুধু ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে না, রেলওয়ের মূল্যবান সম্পদও বেদখল হচ্ছে দিন দিন।
এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে পথ কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ার বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি। কারণ আমাকে লাকসাম, কুমিল্লা, সিনকি আস্তানা সহ চারটি এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, রেললাইনের পাশে মাটি খুঁড়ে যারা মাছ চাষ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় ইতোমধ্যে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রেলপথের এই সংকট শিগগিরই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।