কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের ছাত্রদল কর্মী রোমান আজ সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় দৈনিক কুমিল্লার জমিনের কাছে একটি ক্ষুধে বার্তা পাঠালেন। বার্তাটি হলো, সম্পাদক সাহেব জবাব দেন, আমাদের আগামীর রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমান আন্দোলন সংগ্রামের সময় বলেছেন, মিছিলের সর্বশেষ ব্যক্তিটি তার রাজনৈতিক পরিচয় ফিরে পাবে।২৪ এর আন্দোলনের পর স্থানীয় ও নোয়াখালীর কুচক্রি মহলের ষড়যন্ত্রে হাজী ইয়াছিন ভাইয়ের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে জেলা আহবায়কের পদটি কেড়ে নিল। অথচ গত ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রামের জন্য যে খরচ হয়েছে, নেতাকর্মীদের মামলা চালানো হয়েছে এমনকি যে মিছিলটি হয়েছে এই মিছিলের ব্যানারের টাকাটিও হাজী ইয়াছিন ভাইয়ের টাকায় হয়েছে। এখানে তারেক রহমানের কথার মূল্য কই গেল।
আমাদের নেতা তারেক রহমান দ্বিতীয় যে কথাটি বলেছেন, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ত্যাগী নেতাটিই ধানের শীষ পাবে অর্থাৎ দলীয় মনোনয়ন পাবে। অথচ, সোমবার বিকেলে টিভিতে দেখলাম, হাজী ইয়াছিন ভাইকে মনোনয়ন না দিয়ে মনিরুল হক চৌধুরীকে দিয়েছে। যারা সাথে গত ১৬ বছরের সদরের রাজনীতির কোন নূন্যতম সম্পর্ক নেই। এমনকি, তার নিজ এলাকা সদর দক্ষিণেও তিনি আন্দোলনে ছিলেন না।
ছাত্রদল কর্মী রোমান আরো বলেন, কুমিল্লা-১ এর ড. খন্দকার মোশাররফ স্যার,কুমিল্লা-৩ এর শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ দাদা,কুমিল্লা ৪ এর মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি ভাই, কুমিল্লা ৫ এর জসিম ভাই, কুমিল্লা ৮ এর জাকারিয়া তাহের সুমন ভাই এবং কুমিল্লা ১০ এর আবদুল গফুর ভুইয়া ভাই ও কুমিল্লা ১১ এর কামরুল হুদা ভাই তাদের থেকে কোন অংশে আন্দোলন সংগ্রামে ইয়াছিন ভাই বেশি ছিল না কম ছিল। এর মধ্যে চারজনতো এলাকাতেই ছিলেন না ১৫ বছর।
উপরের মাত্র একজন তৃণমূল ছাত্রদল কর্মীর একটি চিরকুট এখালে উল্লেখ করলাম মাত্র। গতকাল টিভিতে মনোনয়ন ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুমিল্লার জমিন এর কাছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী ছাড়াও কমপক্ষে শতাধিক অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের লোক জানতে চেয়েছেন, বিএনপির মনোনয়নে যদি ত্যাগী নেতাদের এই ভাবে বঞ্চিত করে তাহলে ভদ্র লোকেরা কেন রাজনীতিতে আসবে।
কুমিল্লা নগরীর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দৈনিক কুমিল্লার জমিনকে বলেন, আমি আমার জীবনে ধানের শীষকে ভোট দেইনি। এবার ভাবছি, ধানের শীষকে ভোট দিব। কারণ, হাজী ইয়াছিনের মতো একজন ভদ্র লোক, পরিচ্ছন্ন মানুষ বিএনপির প্রার্থী। কিন্তু তারেক রহমান এটা কি করল ? এটাই কি তারেক রহমানের পরিবর্তিত রাজনীতি- প্রশ্ন রাখেন ১৯৭১ সালের এই বীর সেনানী।
এ দিকে, হাজী ইয়াসিনকে মনোনয়ন না দেওয়ায় কুমিল্লা সদর আসনে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও কান্না যেন থামছেই না। কুমিল্লা সদর আসনের রাজনীতিতে নেমেছে গভীর হতাশা ও বেদনার ছায়া। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী জনপ্রিয় নেতা হাজী ইয়াসিন এবার বিএনপির মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ—সবাই আজ যেন কাঁদছে হাজী ইয়াসিনের জন্য।
হাজী ইয়াসিন কুমিল্লা সদর আসনের তৃণমূল রাজনীতিতে এক পরিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন মাঠে থেকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন অসংখ্য আন্দোলনে। পুলিশি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি পিছু হটেননি।
জানা গেছে, গত ১৬ বছরে তিনি নিজে এবং তাঁর সহযোদ্ধা শত শত নেতাকর্মীর মামলার খরচ নিজ উদ্যোগে বহন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েও তিনি দল ও গণতন্ত্রের পক্ষে অটল থেকেছেন। তাঁর এমন ত্যাগ ও নিষ্ঠার পরও বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে কুমিল্লা সদর আসনের সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মীরা। শত শত কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তাঁদের হতাশা ও প্রতিবাদ।
কেউ কেউ লিখেছেন, “যে মানুষ ১৬ বছর ধরে দলের জন্য রক্ত, ঘাম, অর্থ ও জীবন দিয়েছেন, আজ তাঁকেই ভুলে গেল দল।” স্থানীয় নেতারা জানান, হাজী ইয়াসিন শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিকভাবেও একজন নিবেদিত মানুষ। তিনি সবসময় এলাকার দরিদ্র জনগণের পাশে থেকেছেন, দুর্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁর প্রতি রয়েছে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
আজ সোমবার রাত ১০টায় কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মীরা। তারা গাড়ির টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এবং অবিলম্বে হাজী ইয়াছিনকে কুমিল্লা সদর আসনের মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, হয় কুমিল্লা সদর আসনে তারেক রহমান নির্বাচন করবে নতুবা হাজি ইয়াছিন করবে। এর বাহিরে অন্য কাউকে আমরা মানব না।
সদর আসনের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি কর্মীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ করে হাজী ইয়াসিনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন না।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কুমিল্লা নগরীর এক সিনিয়র নেতা বলেন, গত ১৬ বছর আওয়ামী বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সহযোদ্ধা হিসেবে হাজী ইয়াছিন সাহেবকে পেয়েছি। দলগত এবং জোটগত সকল আলোচনা আমরা তার সাথেই করেছি। অথচ আজ তিনি মনোনয়ন পেলেন না। দল হিসেবে এটা আমাদের বিষয় না। বিএনপি কাকে দিবে না দিবে এটা তাদের বিষয়। কিন্তু যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাকে এক দিনের জন্যও সদরের আন্দোলনে দেখিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের এই ক্ষোভ বিএনপির জন্য একটি সতর্কবার্তা। যারা মাঠে থেকে দলের অস্তিত্ব ধরে রেখেছেন, তাদের অবমূল্যায়ন করলে সংগঠনের ভেতরে হতাশা বাড়তে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমিল্লার এক সামাজিক নেতা বলেন, হাজী ইয়াসিনের মনোনয়ন না পাওয়া শুধু একজন নেতার বঞ্চনা নয়, এটি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবলের ওপরও বড় আঘাত। কুমিল্লা সদর আসনের মানুষ আজ একটাই প্রশ্ন করছে—যে নেতা কঠিন সময়ে দলের পাশে ছিলেন, আজ দলের সেই নেতা কোথায় ন্যায্য মর্যাদা পেলেন?