কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, স্বৈরাচার বিদায় নিলেও তাদের প্রেতাত্মারা এখনো দেশে সক্রিয় রয়েছে। তারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তবে দেশের মানুষ সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের মানুষকে গণতন্ত্র থেকে দূরে রাখতে পারবে না। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জুলাই স্মৃতি সমাবেশ ২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, চব্বিশের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সেই আন্দোলন সফল না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেতাম না। এটি বাস্তব সত্য। যারা তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল তারা জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে প্রহসন করেছে। তারা ভেবেছিল তাদের প্রতারণার বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াবে না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ধৈর্যশীল হলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার রুখে দাঁড়িয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।
তিনি বলেন, এই দেশ আঠারো কোটি মানুষের। বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং দেশের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিককেও উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই। মন্ত্রী আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের কারণে দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যারা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা এখনো ঘাপটি মেরে আছে। সুযোগ পেলেই তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করবে। তাই সবাইকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের অতিথিরা উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানান। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত চিকিৎসাধীন ২০ জনকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় দৈনিক কুমিল্লার জমিন সম্পাদক শাহাজাদা এমরানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আমরা চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব। যারা আহত হয়েছেন তাদের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। জুলাইয়ের সাহসী যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তাই তাদের অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়া যাবে না। ফেইস দ্যা পিপলের সম্পাদক সাইফুর সাগর বলেন, সারা দেশে কেউ জুলাইকে ভুলে গেলেও কুমিল্লার মানুষ জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করবে। শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে এবং তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আক্তার এবং কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের সাবেক সভাপতি আবু রায়হান।