হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন মা। চিকিৎসার জন্য ব্যাংকে গচ্ছিত দেড় লাখ টাকা তুলে নিয়ে সটকে পড়েছেন তার বড় ছেলে।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার করুণানগর এলাকার এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থের অভাবে রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মায়ের চিকিৎসা কার্যক্রম বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

‎ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের এই সংসারে মা তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রির ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুই ছেলে—মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন। উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে তার কোনো বিপদ বা চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই অর্থ ব্যবহার করার।

‎সপ্তাহখানেক আগে তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোক করেন ওই নারী। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

‎রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মায়ের চিকিৎসার জরুরি খরচের জন্য বড় ভাই আলাউদ্দিন ও ছোট ভাই সালাউদ্দিন সোনালী ব্যাংক কমলনগর শাখা থেকে যৌথ অ্যাকাউন্টের পুরো টাকা উত্তোলন করেন। তবে টাকা তোলার পরপরই বড় ভাই আলাউদ্দিন কৌশল করে ছোট ভাই সালাউদ্দিনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে এলাকা থেকে গা-ঢাকা দেন।

পরবর্তীতে স্বজনরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে আলাউদ্দিন সাফ জানিয়ে দেন—মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে তিনি চিকিৎসার টাকা দেবেন না। তবে ঘটনাটি রোববারের হলেও বুধবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে সালাউদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবগত করেন।

‎সালাউদ্দিন যুগান্তরকে জানান, বড় ভাই বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। মা রাজি হননি। এখন মায়ের জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে তিনি প্রতারণা করে চিকিৎসার টাকা আটকে রেখে জমি লিখে নেওয়ার শর্ত দিচ্ছেন। টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, আমরা এখন চরম দিশেহারা।

‎এদিকে ঘটনা জানতে পেরে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা তুলে ছেলে চম্পট দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক ও ন্যক্কারজনক। এমন পাষণ্ড সন্তানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

করুণানগর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম আফসোস করে বলেন, বাবার সম্পত্তি বেচে মা ছেলেদের বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকাটা রাখলেন। সেই সন্তান এভাবে মাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে টাকা নিয়ে পালাবে—তা আমরা ভাবতেও পারি না।

প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যেন এমন কুলাঙ্গার সন্তান আর কারো ঘরে না দেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত পাষণ্ড আলাউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড করুণানগর এলাকার বৃন্দাবন সংলগ্ন মৃত হানিফ বেপারীর বড় ছেলে। আলাউদ্দিন ব্যক্তিজীবনে দুটি বিয়ে করে পৃথকভাবে সংসার করছেন। এ ঘটনার পর থেকে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

‎কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং অমানবিক। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার টাকা নিয়ে সটকে পড়া এবং শর্ত জুড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।