পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাথে কাজ করতে চাই

একান্ত সাক্ষাৎকারে আগরতলা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র দীপক মজুমদার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিজিবির নির্বাহী সদস্য দীপক মজুমদার বলেছেন, বাংলাদেশ এবং ভারত দুটি বন্ধুপ্রতীম দেশ। এই দুই দেশ সব সময়ই একে অপরের বিপদে আপদে এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের মানুষের আতিথিয়তাপূর্ণ আচরণ সারা বিশে^ই প্রশংসিত হচ্ছে। কুমিল্লার শহরের ঝাউতলা আমার পূর্ব পুরুষদের বাড়ি। পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড নিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাথে কাজ করতে চাই। আমাদের এখানে সরেজমিনে এসে কুমিল্লা সিটি কর্তৃপক্ষ আমাদের ভালো কাজ গুলো দেখে নিজ শহরে অ্যাপ্লাই করতে পারে আবারও আমরাও কুমিল্লা গিয়ে তাদের ভালো কাজ গুলো দেখে আগরতলায় অ্যাপ্লাই করতে পারি। এভাবেই দুই দেশের দুই সিটি একটি উন্নয়নের সূচকে দাঁড়াতে পারে।
গত ২৫ এপ্রিল ২০২৩ সকালে আগরতলা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে বৃহত্তর কুমিল্লার পাঠক ও চট্রগ্রাম বিভাগের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কুমিল্লা জমিন এর সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন সম্পাদক কুমিল্লার জমিন সম্পাদক শাহাজাদা এমরান। এ সময় সাথে ছিলেন সাংবাদিক সৈয়দ আহমেদ লাভলু ও তারিকুল ইসলাম তরুণ।

আগরতলা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র দীপক মজুমদার। পিতা স্বর্গীয় ননির পাল মজুমদার, মাতা দিপালী মজুমদার । পিতা-মাতার চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে তার অবস্থান চতুর্থ।
কংগ্রেসের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। ২০১৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)তে যোগ দেন। বিজিপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও যোগ্যতার সাথে। ১৯৯৯ সালে ্আগরতলা পৌরসভার চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন তিনি। ২০২১ সালে আগরতলা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন দীপক মজুমদার।
কুমিল্লার জমিন : গত কয়েক দিন আমরা আপনার শহরে ঘুরে দেখলাম যে, শহরটি খুবই নিট এন্ড ক্লিন । এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে?

দীপক মজুমদার : আগে যখন সিপিএম ক্ষমতায় ছিল তখন বিভিন্নভাবে উন্নতির খাতে যে টাকা আসত সেগুলো বিভিন্নভাবে খরচ করত কোন পরিকল্পনা ছাড়াই। কিন্তু আমাদের সরকার আসার পর আমরা যে খাতে যে টাকা পাই, তা মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে খরচ করি। কিভাবে করলে কি হবে, কিভাবে করলে জিনিসটা ভালো হবে, কাজটা ভালো হবে, তো আমরা সেই ভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি।
আমরা নির্বাচনের পূর্বেই জনগণকে কথা দিয়েছিলাম যে, আমাদেরকে যদি নির্বাচিত করা হয় আমরা শহরকে খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবো। এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও যে সকল পুকুর জলাশয়গুলো রয়েছে সেগুলোকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করব। নির্বাচনের পর আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। যার ফলে শহর পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠছে।
শুধু তাই নয়, যে সকল পুকুর জলাশয়গুলো পরিত্যক্ত রয়েেেছ সেগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। আমাদের শহরে আগে মূল সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতা। অল্প বৃষ্টিতে এই শহরের রাস্তাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। তাই ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি ক্ষমতায় এসে এই জলাবদ্ধতা সমস্যা কে মূল সমস্যা হিসেবে ধরে নিয়ে কাজ শুরু করে। এই কাজগুলোর ফলে এখন অনেক বৃষ্টি হলেও শহরের রাস্তাঘাট বা বাড়িগুলোতে জলাবদ্ধতা হয়না বললেই চলে। অনেক বৃষ্টি হলে যে
রাস্তাঘাটগুলোতে পানি জমে সেগুলোতে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সেই পানি সরে যায়। তারপরও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি যাতে খুব দ্রুতই সেই জলাবদ্ধতার পানি সরে যায়।
এছাড়াও ভারতবর্ষের ১০০ টি স্মার্ট সিটির মধ্যে এই শহরটিও ও অন্তর্ভুক্ত। ২০১৬ সালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগরতলাকে স্মার্ট সিটির অন্তর্ভুক্ত করে। স্মার্ট সিটির কার্যক্রম শুরু হবার পর থেকে আগরতলা শহর নতুন ভাবে সেজে উঠেছে।
কুমিল্লার জমিন : এবারের আগরতলা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজিপির প্রার্থী হিসেবে আপনার প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কি ছিল, এবং সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ কতটুকু করেছেন ?
দীপক মজুমদার : আপনারা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে সিপিএম এবং কংগ্রেস আগরতলা শহরকে জলাবদ্ধতা আর নোংরা শহর ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। তাই এবার আমার প্রথম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল আগরতলা নগরীকে জলাবদ্ধতা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা। তাই আমি মেয়র নির্বাচিত হবার পর থেকেই প্রথমেই জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করি। পরবর্তী পদক্ষেপ নেই শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা নিয়ে। আমরা নিয়মিত শহরকে ঝাড়ু দেওয়াসহও বিভিন্ন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে থাকি। আমরা বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে এই কাজগুলো করে থাকি। আমাদের প্রথম কাজই হচ্ছে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে ময়লাগুলো রয়েছে সেগুলো কালেকশনের চেষ্টা করি। আমাদের শহরের লোকসংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে কিন্তু রাস্তা তো আগের গুলোই রয়েছে। তাই শহরে ট্রাফিক সিস্টেমে একটু সমস্যা হচ্ছে। তাই এখন আমরা চেষ্টা করছি সেই ট্রাফিক সিস্টেমের সমস্যাকে সমাধান করতে।

কুমিল্লার জমিন : আপনি বলেছিলেন আগে আগরতলা শহরে তিনদিন জলাবদ্ধতা থাকতো কিন্তু এখন সেটা এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে সেরে যায়। কোন পদ্ধতিতে আপনি জলাবদ্ধতা নিরসনের এই কাজটি করছেন ?
দীপক মজুমদার : আগের সরকার অর্থাৎ সিপিএম ক্ষমতায় থাকাকালীন এসব কোন কিছুই ছিল না। তারা শুধুমাত্র বিভিন্ন ওয়ার্ড বাড়িয়ে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করত। কিন্তু আমাদের সরকার (বিজেপি) আসার পর থেকে এই জিনিসগুলো ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে। রাজ্য সরকারও চেষ্টা করছে ,আমরাও চেষ্টা করছি। আমরা চেষ্টা করি নিয়মিত যে ড্রেনগুলো রয়েছে সেই ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা। এখন আর ড্রেনের ময়লার কারণে পানি জমে থাকতে পারে না। আমাদের শহরের পানিগুলো প্রধান দুটি খাল ‘আখাউড়া খাল ও কালাপানিয়া খাল’ দিয়ে চলে যায়। বাংলাদেশের আখাউড়া খালের বাঁধ নির্মানের কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। খালগুলো বর্ডার পর্যন্ত আমরা পরিষ্কার করতে পারছি। ওই পাড়ে তো আমরা কাজ করতে পারছি না। আমাদের পাড়ের ময়লা গুলো পরিষ্কার হয়ে গেলেও বাংলাদেশ সীমানার যে ময়লাগুলো রয়েছে সেগুলো আর পরিষ্কার করা হচ্ছে না। তাই আমরা বাংলাদেশ সরকারের সাথেও কথা বলেছি। বাংলাদেশ সরকার বলেছে এটা পরিষ্কারের কাজ করবে। যদি তা না হয়, আমি বলব আমাদেরকে অনুমতি দিলে আমরা এই খাল নিজেরাই পরিষ্কার করব। এই সমস্যাটিকে সমাধান করতে পারলে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাব। তবে বাংলাদেশের আখাউড়া শহরের যে ভৌগোলিক অবস্থান সেই দিক থেকে আমাদের শহরের সবগুলো জল ড্রেন দিয়ে যায় না। কিছু কিছু জায়গার জল আমরা পাম্প করার চেষ্টা করি। আমাদের শহরে ১৮ টি পাম্প রয়েছে। সেই পাম্প গুলো দিয়ে আমরা চেষ্টা করছি জলগুলো যেন সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে। আর এই নদীগুলো সবগুলোই বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত। ড্রেনের যে জলটা সেটাও যাচ্ছে বাংলাদেশে আর পাম্প করার মাধ্যমে যেটা নদীতে গিয়ে ফেলছি সেটাও যাচ্ছে বাংলাদেশে।

কুমিল্লার জমিন : আমরা দেখেছি এখানকার ট্রাফিক সিস্টেম খুবই উন্নত । এখানে রা¯টাঘাটে খুব একটা ট্রাফিক পুলিশের দরকার হচ্ছে না। যানজটও নেই। এটা আপনি কিভাবে সম্ভব করলেন?

দীপক মজুমদার : আমরা যানজট নিরসনের সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। অনেকটা সফল হলেও কিছু কিছু স্থানে কিছু অবৈধ ফুটপাতের কারণে এই যানজট এখনো কিছুটা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি , যানজটের কারণ ফুটপাতগুলোকে উচ্ছেদ করতে, বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেগুলো রাস্তার পাশে গড়ে ওঠে সেগুলো সরানোর মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যানজট মুক্ত আগরতলা গড়ে তুলতে। এছাড়াও শহরের জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে। একটা সময় আগরতলা থেকে মানুষ বাহিরে গিয়ে পড়াশোনা করতো বা চিকিৎসার জন্য মানুষ বাহিরে যেত। কিন্তু বর্তমানে এর উল্টোটা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য বা শিক্ষার জন্য মানুষ বাহির থেকে আগরতলাতে আসছে। আমাদের সরকার এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই উন্নত করেছে। যার কারণে এখানে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হলেও আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে চেষ্টা করতেছি যানজটটা কমাতে।

কুমিল্লার জমিন : বর্তমানে আগরতলার আইনশৃংখলা কেমন?

দীপক মজুমদার : আগে আগরতলাতে অনেক সন্ত্রাস ছিল, রাত্রে বেলা মানুষ বের হতে পারতো না। কিন্তু এখন সেটা অনেকটাই কমে এসেছে। আমরা আরো কমাবো । আরো চেষ্টা করব এই শহরকে উন্নত করতে।

কুমিল্লার জমিন : আপনার শহরের এতগুলো ইতিবাচক দিক দেখার সাথে সাথে একটি নেতিবাচক দিকও আমাদের চোখে পড়ছে। আর তা হচ্ছে রাত দশটার পর নাকি কেরোসিন পার্টি নামে একটি দল ব্যবসায়ীদের ডিস্টার্ব করে। এটা নিয়ে আপনি কি বলবেন?

দীপক মজুমদার : আগে যে সরকার ছিল তাদের সময় তো মানুষ রাস্তায় ওপেন নেশা করত। এমনকি আগরতলায় গাঁজা চাষ হতো। এবং এই নেশাই তখন এখানকার জনগনের মূল ব্যবসা ছিল। কিন্তু আমাদের সরকার আসার পর এই নেশাকে আমরা পুরোপুরি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। যুব সম্প্রদায় নেশায়
আসক্ত ছিল তখন। এখন তা কমে এসেছে। আমাদের কাজের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে যুবসমাজ কে নেশা থেকে দূরে সরিয়ে আনা। পূর্ববর্তী সরকার ২৫ বছর ধরে যা পারেনি আমাদের সরকার এখন তা করে দেখাচ্ছে। সরকার ছাড়াও এ কাজ করা উচিত পরিবারদের। পরিবার যদি যথাযথ উদ্যোগ নেয় তাহলে ওই পরিবারের ছেলেরা নেশা থেকে দূরে থাকতে পারবে। আমরাও উদ্যোগ নিয়েছি যে, রাত এগারোটার পর আগরতলাতে কোন ফাস্টফুডের দোকান খোলা থাকবে না, ফুটপাতে কোন হকার থাকতে পারবেনা। অবশ্য আমাদের এদিকে এমনিতেই পাবলিকরা নিজেরাই রাত দশটার পর দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।

কুমিল্লার জমিন : আপনি বলছিলেন যে, সিপিএমের সময় গাঁজা চাষ হতো এবং যুব সমাজ নেশা করত। আমরা যতটুকু জানি, এখনো ত্রিপুরার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গাঁজার অবাধ চাষ হচ্ছে। গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বাংলাদেশে পাচার করে আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। একজন মেয়র হিসেবে আপনার বক্তব্য কি ?

দীপক মজুমদার : ইয়াবা এবং ফেন্সিডিল তো অন্যখান থেকে সাপ্লাই দেওয়া হয়। তবে যে গাঁজা এখানে চাষ হয় তা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। যেখানে গাঁজা চাষ হয় বা গাঁজা সাপ্লাই হয় খবর পাওয়া মাত্রই আমরা সেখানকার রা¯তাগুলো ব্লক করে দিচ্ছি। এ বিষয়ে আমাদের বিএসএফ ও কাজ করছে।

কুমিল্লার জমিন : বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে কুমিল্লা মানুষ ্আশ^স্ত হতে চায় যে,আপনারা গাঁজা চাষ বন্ধ কববেন ।

দীপক মজুমদার : আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই ছিল মাদক নিয়ে কাজ করা। আমরা সরকারে এই কাজ শুরু করেছি। আমরা চেষ্টা করছি সীমান্তে যে গাঁজা চাষ হয় তা খুব শীঘ্রই বন্ধ করব। আমাদের সরকার নেশা মুক্ত শহর গড়তে চান। নেশা মুক্ত হলেই আমাদের যুব সমাজ ও যুব সম্প্রদায় বাঁচবে। আর তারা বাঁচলে আমাদের রাজ্য বাঁচবে,দেশ বাঁচবে।

কুমিল্লার জমিন : আপনারা বলেন, বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র । কিন্তু আপনারা সীমান্তে হত্যা বন্ধ করছেন না। এভাবে কি কেউ কোন বন্ধুকে গুলি করে মারে ?

দীপক মজুমদার : বাংলাদেশ সব সময় আমাদের বন্ধু। ভৌগলিক সীমানা নির্ধারণ করার জন্য হয়তোবা কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দুই দেশের মানুষের মন চিন্তা চেতনা সব একই রকম। আমাদের ভারত সরকার সব সময় শান্তি চান। আমাদের সরকার চান বাংলাদেশ উন্নতি করুক। কারো পাঁচতলা বাড়ি থাকবে আর কারো কুঁড়ে ঘর থাকবে এতে আমার পাঁচতলা বাড়ির কোন মূল্যায়ন থাকে না। আমার পাঁচতলা বাড়ির পাশে যদি চারতলা বাড়িও ওঠে তাহলে আমার পাঁচতলাকে মানুষ মূল্যায়ন করবে। তাই আমরাও চাই বাংলাদেশ উন্নতি করুক। আমাদের সরকারও চায় বাংলাদেশ উন্নতি করুক। আমাদের বিএসএফ বাহিনী অনেক সময় মাদক কারবারের সাথে জড়িত আসামিদের ধরতে গিয়ে যখন আসামিরা পালিয়ে যায় তখন তাদেরকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। তখন হয়তোবা দুর্ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু এমনিতে তো বাংলাদেশ থেকে অনেক লোক এখানে আসে। এদেশের মানুষরাই ওই লোকদের আসতে সাহায্য করে তারা আবার কাজ করে বাংলাদেশে ফেরত চলে যায়। বাংলাদেশ থেকে কেউ আসলে আমরা বরং খুশি হই। তাদেরকে বলি যে চা খেতে নাস্তা করতে। আবার আমার মতে বাংলাদেশের আতিথিয়তা পুরা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেস্ট। তাই আমরাও চাই আমাদের পাশের দেশ, বাংলাদেশ ভালো থাকুক।

কুমিল্লার জমিন : কুমিল্লা শহর সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা আছে?

দীপক মজুমদার : অবশ্যই । কুমিল্লা সম্পর্কে আমার একটি দুর্বলতা আছে । কুমিল্লা শহরের ঝাউতলা আমার পূর্ব পুরুষরা থাকতেন। আমার দাদুর বাড়ি ছিল সেখানে। আমার দাদু একজন ডাক্তার ছিলেন পেশায় । তার নাম গোবিন্দ দেবনাথ।

কুমিল্লার জমিন : কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং আগরতলা সিটি কর্পোরেশন এই দুই সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে পারস্পারিক কোন সেতু বন্ধন করা যায় কি না ?

দীপক মজুমদার : হ্যাঁ অবশ্যই । কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদেরও জানার অনেক কিছু আছে। কুমিল্লা শহরে যে ভালো ভালো উন্নয়নমূলক কাজগুলো হচ্ছে আমরাও সেগুলো সম্পর্কে জেনে আমাদের শহরে এপ্লাই করতে পারি। আমরা আমাদের দেশেও বিভিন্ন বড় বড় শহরের সাথে মাঝে মাঝে মত বিনিময় সভা করি। ওই শহরের উন্নয়ন ব্যবস্থা কিভাবে হয়েছে আমরা সেই সম্পর্কে ধারণা নেই। বড় শহর হোক বা ছোট শহর হোক। আমাদেরও জানার অনেক কিছু আছে। যেমন কুমিল্লাতে যদি কোনো সিস্টেম ভালো চালায় সেটা আমরা আগরতলায় প্রয়োগ করতে পারি। যত বেশি জানা যাবে, যত বেশি দেখা যাবে তাহলে তত বেশি উন্নয়ন হবে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাথে পারস্পারিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে চাই। একে অপরের উন্নয়নের অংশিদার হতে চাই। সেতু বন্ধন রচনা করতে চাই। আমি যোগাযোগ করতে চেষ্টা করব। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনও যদি যোগাযোগ রাখে তাহলে দেখবেন একদিন উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতবিনিময় বা সফর বিনিময়ও হয়ে যাবে। সুযোগ থাকলে আমার এ আহবান আপনিও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে বলবেন।

কুমিল্লার জমিন : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

দীপক মজুমদার : আপনারা কষ্ট করে বাংলাদেশ থেকে এসে আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সেই জন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যে কোন প্রয়োজনে আসবেন। আমি আপনাদের সহযোগিতা করব।