হাড়িভাঙা আম খুলে দিয়েছে ২০ হাজার শ্রমিকের জীবিকার পথ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন আগেই রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাড়িভাঙা আম গাছ থেকে পারা শুরু হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গত ১০ জুন থেকে বাজারে মিলছে বিষমুক্ত ও অতি সুমিষ্ট আঁশহীন হাড়িভাঙা আম।

এই আমকে ঘিরে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি জীবন-জীবিকার পথ খুলে দিয়েছে শ্রমিকদের। এতে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ওই সব শ্রমিকরা এক মাস গাছ থেকে হাড়িভাঙা আম পেড়ে মাসে আয় করবেন ২৫ কোটি টাকার বেশি।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার হাড়িভাঙা আমের রাজধানী খ্যাত পদাগঞ্জসহ খোড়াগাছ, রুপসী, রানীপুকুর, সর্দারপাড়া, সদরের পালিচড়া, শ্যামপুর এলাকার কয়েকটি বাগানের মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হলে তারা এসব তথ্য জানান।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর মিঠাপুকুর, রংপুর সদর ও বদরগঞ্জ উপজেলাসহ রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৯০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের ওপর। মৌসুমের শুরুতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে হাড়িভাঙা আম বিক্রি হয়। আর মৌসুমের শেষদিকে দাম বেড়ে গিয়ে প্রতি কেজি হাড়িভাঙা আম ১৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হয়।

কৃষি বিভাগ, স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও রংপুর সদরের কিছু অংশ মিলে তিন হাজারের ওপর আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়গাছ, পদাগঞ্জ, রানীপুকুর, বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর, শ্যামপুর ও সদরের পালিচড়া এলাকায় বেশি বাগান রয়েছে। এসব বাগান কারও নিজের আবার কেউ লিজ নিয়ে আম চাষ করছেন।

শ্রমিকরা জানান, এ অঞ্চলে তিন হাজারের বেশি আম বাগান রয়েছে। একেকটি বাগানে দেড় থেকে দুইশ গাছ রয়েছে। কোনো কোনো বাগানে আরও বেশি গাছ রয়েছে। এ সময় খেত-খামারে কাজ না থাকায় গাছের আম পেড়ে মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার আমবাগানের মালিক শাহাদত হোসেন ও আবু শালিম জানান, তারা আগে ধানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করতেন। এখন আমের বাগান করেছেন। বর্তমানে তাদের পাঁচটি বাগান রয়েছে। আরও কয়েকটি বাগান লিজ নেওয়া আছে।

মিঠাপুকুরের রুপসী সর্দারপাড়া এলাকার আশরাফুল মিয়া, খোড়াগাছ মণ্ডলপাড়ার সাদ্দাম হোসেন, পদাগঞ্জ পাইকারপাড়ার নফল উদ্দিন ও সদরের পালিচড়া এলাকার মনজুরুল মিয়া, নাজমুল হাসানসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, বর্তমান সময়ে খেত-খামারে কোনো কাজ নেই। তেমন কোনো চাষাবাদও হয় না। বেকার সময় কাটে। তাই বসে না থেকে আমের মৌসুমে এক-দেড় মাস আম বাগান পাহারা ও গাছ থেকে আম পেরে মাসিক ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পাচ্ছি। এই টাকা সংসারের বাড়তি কাজে লাগছে। তাদের মতো ১৫ হাজারের বেশি শ্রমিক এ সময় গাছ থেকে আম পারার কাজ করছেন বলে তারা জানান।

আম চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম সরকার জানান, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও রংপুর সদরের কিছু অংশ মিলে ৩ হাজারের ওপর আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়গাছ, পদাগঞ্জ, রানীপুকুর, বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর, শ্যামপুর ও সদরের পালিচড়া এলাকায় বেশি বাগান রয়েছে। এই আমে অনেকেরই ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আম মৌসুমকে ঘিরে শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকারও পথ খুলে যায়।