মানবাধিকার কর্মী ও পেশাজীবী সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দায়ের করা বিভিন্ন অভিযোগ, মামলা এবং দীর্ঘদিনের নানা ঘটনার তদন্ত কার্যক্রমে নতুন অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা, সাইবার অপরাধের অভিযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার সূত্র ধরে কোতোয়ালি মডেল থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে। এসব জিডিতে সাইবার অপরাধের সম্ভাব্য আলামত, অনলাইন কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপাদান সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়গুলো আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিক তদন্তের অনুমতি প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট থানা মামলার বিভিন্ন আলামত জব্দ করে তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট অপরাধ, সাইবার কার্যক্রম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটি নন-এফআইআর (Non-FIR) ও নন-জিআর (Non-GR) প্রক্রিয়ায় অনুমোদনের পর এর গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে Criminal Investigation Department (CID)-কে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ, অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য অভিযোগ বর্তমানে বিশেষ তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং অপরাধের প্রকৃত উৎস উদঘাটনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধিরা মনে করেন, প্রায় এক দশক ধরে চলমান অভিযোগ ও ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, একজন নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার পাওয়া প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে কারা অভিযুক্ত, কারা জড়িত এবং ঘটনাগুলোর পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র বলেন, “চলমান তদন্তের মাধ্যমে মামলার সব দিক নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমি আশা করছি। এছাড়া আমার কাছে থাকা সংশ্লিষ্ট সকল নথি ও ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে জেলা তথ্য অফিসে আবেদন করেছি, যাতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। আমি আশা করি, আবেদনটি যথাযথভাবে রেকর্ডভুক্ত করে আইনি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।” সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ ও সাইবার অভিযোগের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, চলমান তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে একদিকে যেমন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমও আরও কার্যকর হবে।