কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করছিল পরিবার। খবর পেয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নালঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রীর গোপালনগর মোঃ অলী উল্লাহর মেয়ে উম্মে হাবিবা অহনা (১৫) সঙ্গে কুমিল্লা দক্ষিণ উপজেলা বিয়ের আয়োজন করা হলে খবর পেয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও চৌদ্দগ্রাম সহকারী কমিশনার সৈয়দ সাফকাত আলী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়ের বাবার জরিমানা ও মুচলেকায় আদায় করে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, চৌদ্দগ্রাম শাহানাজ আক্তার ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি টীম।
চৌদ্দগ্রাম সহকারী কমিশনার সৈয়দ সাফকাত আলী জানায় উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে বাল্যবিবাহ হচ্ছে খবরের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দেখা যায়, আইন অনুযায়ী বিবাহের উপযুক্ত বয়স (পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর, মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর) হওয়ার পূর্বেই এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করার আয়োজন করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে কনের পিতাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন তার কন্যার বয়স ১৮ বছর হয়নি এবং তার অপরাধ স্বীকার করে নেন।
কনের পরিবার উক্ত আইন অমান্য করে এবং নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বয়স গোপন করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা পরিচালনা করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। মেয়ের পরিবার ভবিষ্যতে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন করবেন না মর্মে মুচলেকা গ্রহণ এবং মেয়েকে আবার স্কুলে পাঠাবে বলে স্বীকৃতি দেয়।